
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে উত্তেজনার জেরে পাল্টাপাল্টি মামলায় জড়ালেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেনের পক্ষের লোকজন। আনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার একদিনের মাথায় এবার রুমিন ফারহানার কর্মীদের আসামি করে নতুন মামলা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী তামিম মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সরাইল থানা পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করে। এতে ১৭ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সরাইল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভুঁইয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে জেলা বিএনপির সদস্য ও সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ফারজানা আনোয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এবং তার বাড়ির সামনে এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গালিগালাজ করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে বাদী তামিম মিয়াকে মারধর করে তার কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে স্লোগান দেওয়া নিয়ে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা ক্ষিপ্ত হন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রুমিন ফারহানার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে বিকেলে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “বিএনপির গুন্ডারা কেবল যে ২১ ফেব্রুয়ারিতে আমাকে শহীদ মিনারে বাধা দিয়েছে তাই নয়, আজকে তারা আমার নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা সাজিয়েছে। ২১ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ প্রশাসনের সামনে পুরো ঘটনা ঘটলেও তারা ছিল মূক বধির। নতুন বাংলাদেশ আর নতুন রাজনীতির এই হলো নমুনা।”
এর আগে, সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা এবং তার কর্মীদের মারধরের অভিযোগে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আহাদ নামে তার এক সমর্থক সরাইল থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনকে। এজাহারে পাঁচজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।