
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার পদে কে নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে এবং এ অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানকে স্পিকার পদে বসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, “মঈন খানের স্পিকার হওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদে আলোচিত হচ্ছে। অনেকটাই নিশ্চিত, তিনিই পরবর্তী স্পিকার। মৌখিকভাবে কর্মকর্তাদের কাছে তার নাম আলোচিত হচ্ছে।”
ডেপুটি স্পিকার পদে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ভোলা-১ আসনের ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ও নোয়াখালী-১ আসনের ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে শেষ সিদ্ধান্ত দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানই নেবেন।
সরকারদলীয় চিপ হুইপ পদে নোয়াখালী-২ আসনের জয়নুল আবদিন ফারুক ও নোয়াখালী-৩ আসনের বরকত উল্লাহ বুলুর নাম আলোচনায় রয়েছে। এদের কেউ এখনও তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দলের ভেতরে ও বাইরে ড. আবদুল মঈন খানের নাম স্পিকার পদে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ, স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য মন্ত্রিসভা বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত হলেও ড. খান এখনো সরকারের বাইরে আছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রবীণ নেতা ড. মঈন খানের রাজনৈতিক ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা তাকে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক। নিজে বলেন, “১৯৯১ সালের অগাস্ট/সেপ্টেম্বরে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আমি একদিন সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। পরে তা সংসদের ভেতরে ও পত্রপত্রিকায় প্রশংসিত হয়। এবার দল কি সিদ্ধান্ত নেয় তা জানি না। দল থেকে আমাকে যে দায়িত্ব দেওয়া হবে, আমি সেটি যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব।”
উল্লেখ্য, সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার। স্পিকার পদ রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্বপূর্ণ পদ, যা সংসদ অধিবেশন পরিচালনা, কার্যপ্রণালি প্রয়োগ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে।