
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসন ঢাকা-১৮ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে মান্না জানান, বর্তমানে তিনি বগুড়ায় অবস্থান করছেন এবং ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন পরিচালনার ব্যয় বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এই আর্থিক বাস্তবতাই তাকে ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করেছে।
পোস্টে তিনি লেখেন, “এখন আমি বগুড়ায়। একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ এবং বগুড়া-২ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ঢাকা ১৮ একটি বিশাল নির্বাচনী এলাকা। এর অন্তর্গত সাড়ে সাতটি থানা এবং সাড়ে ছয় লক্ষের মত ভোটার এখানে। নির্বাচন এতই ব্যয়বহুল যে তা নির্বাহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষিতে আমি ঢাকা ১৮ এর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার এই সিদ্ধান্তে হয়তো অনেকে মনে কষ্ট পাবেন। তাদের কাছে আমি দুঃখপ্রকাশ করছি।”
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঢাকা-১৮ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র শুরু থেকেই বৈধ ছিল। রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, কুড়িল, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও তুরাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে বর্তমানে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আরিফুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
ঢাকা-১৮ থেকে সরে দাঁড়ালেও মান্না বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে তার প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন। শুরুতে ঋণখেলাপির অভিযোগে ওই আসনে তার মনোনয়ন বাতিল করা হলেও নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পান। বগুড়া-২ আসনে প্রথমে বিএনপি তাকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে দলটি নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেয়। একই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান।