
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে জনমনে তৈরি হওয়া সব ধরনের সংশয় ও উৎকণ্ঠা নাকচ করে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে অতীতে অনুষ্ঠিত যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ অনেক বেশি শান্ত, সুশৃঙ্খল ও অনুকূল।
একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের কারণে ফলাফল প্রকাশ নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন এই কমিশনার। তিনি জানান, ফল পেতে তিন দিন সময় লাগবে এমন ধারণা সঠিক নয়; বরং ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে।
রোববার ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন আনোয়ারুল ইসলাম।
নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ আদৌ হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক ভালো।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, রোববার থেকেই মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটরা। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর দাবি, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং নির্বাচন কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সমন্বিতভাবে নির্বাচন পরিচালিত হবে।
নির্বাচনের দিন নজরদারি ব্যবস্থার বিষয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম কাজ করবে এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে তথ্য পাঠানো হবে। যেসব ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যদের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে একটি বিশেষ ‘ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল’ সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফল ঘোষণায় বিলম্বের আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিশনের লক্ষ্য হচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফল প্রকাশ করা। এমনকি পুরো দিনটিও প্রয়োজন নাও হতে পারে। আধুনিক অটোমেশন ব্যবস্থা ও একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তবে দুর্গম এলাকার কিছু কেন্দ্রে সামান্য বিলম্ব হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী ভোটারদের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি জোর দেন।
নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে কমিশনের অবস্থান পরিষ্কার করে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “সাংবাদিকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবেন।” কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আসুন সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করি।