
চট্টগ্রামের মাটির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ও তার পরিবারের একটি বিশেষ আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।"
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে অর্জিত স্বাধীনতাকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন রক্ষা করেছে। তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।"
তারেক রহমান আরও বলেন, "আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।" দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি জানান, এজন্য কৃষকদের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই যাতে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?" তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে, যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। "এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।"
নিরাপত্তা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয় হলো দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।"
তিনি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, "আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দিন।"
সমাবেশের আগে রোববার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীরা জমায়েত হতে শুরু করেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ মিছিল নিয়ে আসেন। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমন ও মহাসমাবেশকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকা ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-১৪৭ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি রেডিসন ব্লু হোটেলে যান এবং রাতযাপন করেন। রোববার সকালে তিনি তরুণদের সঙ্গে একটি পলিসি ডায়ালগে অংশ নেন এবং পরে পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশে যোগ দেন। চট্টগ্রাম সফরের পর ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে একাধিক পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মহাসমাবেশ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীকে কঠোর নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। প্রায় দুই হাজার পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মঞ্চসহ পুরো এলাকা তিন স্তরের নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে - রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রিন জোন।
উল্লেখ্য, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন। তখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নিয়ে লালদিঘী ময়দানে জনসভায় বক্তব্য দেন।