
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতারা। শুক্রবার সন্ধ্যায় ‘ফরেন করেস্পন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (FCCSA) আয়োজিত ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তারা গণতন্ত্র রক্ষার দাবি তুলে ধরেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আর ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে একটি মূল দাবি হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিগত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্ত’ চালানো, যাতে ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়। এছাড়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী এবং সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ রোধসহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি করা হয়েছে।
দিল্লিতে এই ধারাবাহিক সংবাদ সম্মেলনকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আওয়ামী লীগের বক্তব্য পৌঁছে দেওয়ার জন্যই ভারতীয় মাটিতে এভাবে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশে গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা, সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক হিংসা এবং দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।”
এছাড়া তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অপসারণ, রাস্তাঘাটে সহিংসতা বন্ধ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হুমকি ও জেলবন্দি বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ভারতীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছে দেওয়া সহজ এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।
সূত্রঃ বিবিসি