
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, দেশের এবং গণতন্ত্রের স্বার্থই ছিল খালেদা জিয়ার কাছে সর্বাগ্রে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কবরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ড. মঈন খান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ ১৬ বছর তিনি সংগ্রাম করেছেন। জনগণের জন্য কথা বলেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “একসময় সংসদে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে বলেছিলাম যে তিনি এই সংসদের মহীয়সী নারী। আজ আমাদের শোক জানানোর কোনো ভাষা নেই। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারি যে বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন নারী ছিলেন যিনি গৃহবধূ থেকে দেশের কোটি কোটি মানুষের আহ্বানে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন বাংলাদেশের মানুষের জন্য। তিনি গণতন্ত্রের জন্য জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।”
খালেদা জিয়ার আপসহীনতার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিভিন্ন সময়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অথবা দলগত সুযোগ-সুবিধার জন্য রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে আপস করেছিলেন। খালেদা জিয়া একজন অনন্য ব্যক্তিত্ব যিনি তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে দেশের স্বার্থ এবং গণতন্ত্রের স্বার্থই ছিল তার জন্য সর্বাগ্রে। যেখানে তার নিজের জীবনকে তিনি তুচ্ছ করেছিলেন এই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য।”
বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, “তিনি কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে কোনোদিন রাজনীতি করেননি। তিনি জনগণের কাতারে থেকে রাজনীতি করেছেন এবং আপনারা জানেন সেই ৮০র দশকে তাকে কীভাবে একটি সামরিক শাসনের হাতে নির্যাতন এবং অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া থেমে থাকেননি। তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। তার শক্তি ছিল জনগণের শক্তি, বন্দুকের শক্তি নয়। পরবর্তীতে সেই সামরিক শাসনকে হটিয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এ দেশে পুনরায় বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।”