
সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (অব.) (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (অব.) (৪৭)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালতে এ রিমান্ড আবেদন করেন।
ডিএমপির পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ (অব.), সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়। তদন্তে তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান এবং সংশ্লিষ্ট পেজ ও ওয়েবসাইটের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এসব কারণে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।