
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান নিয়ে রাশিয়া থেকে একটি কার্গো বিমান ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। জানা গেছে, রাশিয়া থেকে যাত্রা করা বিমানটি ভারতের একটি বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করার পর বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
আগের চালান বাতিল, নতুন চালানের প্রস্তুতি
এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেটি বাতিল করা হয়। ওই চালান গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ও রাশিয়া—উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে সেটি দেশে আসেনি।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি কার্গো এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃভরণের জন্য আরও দুটি কার্গোতে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হবে। সব মিলিয়ে নয়টি চালানে দেশে এই জ্বালানি পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরো জ্বালানি সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ইউনিটের কমিশনিংয়েও অগ্রগতি
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। গত বুধবার সকালে ১৬ মেগাপাসকেল চাপ প্রয়োগ করে প্রেসার-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার এক বার্তায় জানানো হয়, ত্রুটি সংশোধনের পর মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। বুধবার সকালে তা সফলভাবে শেষ হয়। পরীক্ষা চালানো হয়েছে প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—দুই জায়গা থেকেই।
পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ ভাল্ভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রধান নিরাপত্তা ভাল্ভের কার্যক্রম ও বিভিন্ন পরিস্থিতিতে এর প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়েছে। এ সময় ভাল্ভের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া, অ্যালার্ম এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুমোদিত পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত অনুসরণ করেই পুরো পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
দুই ইউনিটে উৎপাদন হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। প্রকল্পটির দুটি ইউনিটে সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকবে।