
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ মজুত বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে চীন পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
বেইজিংয়ের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অক্টোবরের সব চালান স্থগিত
চীনের বড় কয়েকটি তেল শোধনাগার অক্টোবর মাসে পেট্রোল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির নির্ধারিত চালান বাতিল অথবা স্থগিত করেছে। ফলে চীনের সরবরাহের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
বিশ্ববাজারে এমনিতেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যে চীনের রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত এশিয়ার বাজারে ডিজেলসহ বিভিন্ন পরিশোধিত জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে শুরু করেছে।
অভ্যন্তরীণ মজুতকে অগ্রাধিকার
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবে এর আগেও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক ওঠানামা হয়েছে। গত জুলাইয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলেও চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির মজুত কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে বেইজিং আবারও রপ্তানিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত ও নিরাপদ পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত চীন রপ্তানির ওপর এই বিধিনিষেধ বজায় রাখতে পারে।
চীনের আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে এশিয়ার জ্বালানি বাজারে ইতোমধ্যে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের বিদ্যমান পরিস্থিতির সঙ্গে এই নতুন চাপ যুক্ত হলে জ্বালানির ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।