
পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। আমন্ত্রণের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণই লাভবান হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তানে তৈরি পোশাক, বিশেষ করে নারীদের পোশাক, বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে আগামী অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা হবে। একই ধরনের মেলা বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম উৎপাদনে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে পাকিস্তানের উদ্যোক্তাদের আগ্রহের কথাও জানান হাইকমিশনার।
চলতি বছর ঢাকা ও করাচির মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান হায়দার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশি চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা আমদানির আহ্বান জানান।
জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান, অন্যান্য কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন।
ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তাঁর দেশ কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ ও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার বাংলাদেশে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি তাঁকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।