
জাতীয় সংসদে তিনটি বিল পাসের প্রতিবাদে অধিবেশন বর্জন করে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা। রোববার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের পর এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। ঘটনাটিকে সংসদের ইতিহাসে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিরোধীদলের নেতারা।
বিরোধীদলীয় নেতা নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা সুযোগ চাইলেও স্পিকার তাকে কথা বলার অনুমতি দেননি। বরং বিষয়টি নিয়ে স্পিকার মশকরা করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্পিকারের কাছ থেকে এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। তার মতে, এ ঘটনায় তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন।
সরকার বিরোধীদলের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ সংসদে উত্থাপন ও পাস করেছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তার দাবি, প্রস্তাবিত আইন দুটিতে স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ রাখা হয়নি।
অন্যদিকে সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় মুখপাত্র নজিবুর রহমান। তিনি বিলটিকে কোরআন ও সুন্নাহর পরিপন্থী বলে দাবি করেন।
আইনমন্ত্রীর সমালোচনা করে নজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ইসলামী বিধান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা না থাকায় বিষয়টি সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নজিবুর রহমান। তার ভাষ্য, স্পিকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু তিনি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।
মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রণয়নের পরিবর্তে সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আইনগুলোকে আরও দুর্বল করে সংসদে পাস করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাস হওয়া আইনগুলোকে ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে নজিবুর রহমান বলেন, এসব আইনের কারণে মানুষের মানবাধিকার আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা উপেক্ষা করে সরকার আবারও আগের ধারায় দেশ পরিচালনা করছে—এমন অভিযোগও করেন জামায়াতের এই সংসদীয় মুখপাত্র।