
রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ এলাকার তিন বস্তির বাসিন্দাদের জন্য আধুনিক আবাসন নির্মাণে চীনের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবটিতে প্রাথমিকভাবে সম্মতি জানিয়েছে চীন। ধাপে ধাপে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বৈঠক হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গুলশান ও ঢাকা-১৭ এলাকায় কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক—এই তিনটি বস্তি রয়েছে। এসব এলাকার বর্তমান বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে আধুনিক আবাসন তৈরির প্রস্তাব চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। চীন এতে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। বস্তিগুলোতে বর্তমানে বসবাসরত প্রত্যেকের আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতেও চীনের বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য ব্যবহার করে চীনের একটি কোম্পানি আগামী দেড় বছরের মধ্যে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এ প্রকল্প নিয়ে আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনে ত্রিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। বর্তমানে প্রকল্পটির মাত্র ৩০ শতাংশ কার্যক্রম চালু রয়েছে। পুরো প্রকল্প সচল করতে চীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। প্রয়োজনীয় বাকি অর্থ ঋণ কিংবা অনুদান হিসেবে দেওয়ার বিষয়েও দেশটি আগ্রহ দেখিয়েছে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনেও চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি রাজনৈতিক সম্পর্কও আরও গভীর করতে চায় চীন। বিএনপি ও চীনের রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
মীর শাহে আলম আরও জানান, মংলা বন্দরের আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত শুরু করবে চীন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে মংলা বন্দরের সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বৈঠক প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের ভবিষ্যৎ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে মংলা বন্দর প্রকল্প ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে চীন। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডিও শেষ হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়েও বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান ইয়াও ওয়েন। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে চীনের অনেক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।