
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এবার হত্যার পর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করার অভিযোগ করেছেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করে পুলিশ জানিয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ছাদ ধোয়া হয়নি; ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় পানির ট্যাংক উপচে ছাদে পানি জমেছিল।
পার্থ দাসের দাবি, সন্ধ্যার পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির আলো বন্ধ ছিল। এ সময় তিনি লক্ষ্য করেন, বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পানি পড়ছে। দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, ভুলবশত মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় পানির ট্যাংক উপচে ছাদে পানি পড়ে।
পার্থের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি অন্য কাউকে না জানানোর জন্য পুলিশ সদস্যরা তাকে অনুরোধ করেন। পরে তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘খুনির ভাই’ হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়।
তবে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, ছাদে পানি পড়ার ঘটনায় কোনো ষড়যন্ত্র নেই। তাদের দাবি, গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে ভুল করে মোটরের সুইচ চালু করে ফেলেন। এতে পানির ট্যাংক উপচে ছাদে পানি জমে যায়। পরে পানি পড়তে দেখে মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘ভুল করে আমাদের কেউ হয়তো মোটর চালিয়ে দিয়েছিল। ওইটা পরে পানি ওভারফ্লো করছে। লাইটের সুইচ দিতে গিয়ে মোটরের সুইচ দিয়ে ফেলছে, ওরা চেনে না তো। মোটর চলছে, পরে পানি পড়া দেখে উপরে গিয়ে বন্ধ করছে। এখানে কোনো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব নাই।’
এর আগে গত শনিবার (২২ আগস্ট) নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৪) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী (১২)।
এ ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পরে প্রতিবেশী দুই যুবক মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতে হাজির করার পর তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে হত্যাকাণ্ডটির তদন্ত করছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আলামত সংরক্ষণ ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।