
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে নিহতদের স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দেওয়া এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।
এর আগে নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারও গভীর শোক প্রকাশ করে। পাশাপাশি দেশটির চলমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় যেকোনো ধরনের সহায়তা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়।
বুধবার পর্যন্ত নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের তালিকায় বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।
ভোতেকোশি নদীর আশপাশের তিনটি জেলা আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে লহেন্দে নদীর পানি তুষারধসে তৈরি ধ্বংসস্তূপে আটকে যায়। পরবর্তী সময়ে সঞ্চিত পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত ভোতেকোশি নদীতে নেমে এ ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় বৃষ্টিপাত না থাকায় বন্যার আগে তারা কোনো ধরনের সতর্কবার্তা পাননি।
বন্যার পানিতে অন্তত নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পানিতে ভেসে গেছে।
তবে এই দুর্যোগে মোট ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।