
হালাল খাদ্য ও সংস্কৃতিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে পারলে এটি শুধু মুসলিম বিশ্বের নয়, পুরো মানবসভ্যতার জন্য বড় সম্পদ ও শক্তিতে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ শুধু একটি ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যের একটি বিশাল বাজার রয়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়েই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত।’
বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে অভিন্ন মূল্যবোধের বিষয়টি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ নিজেদের সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও অভিন্ন মূল্যবোধকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশে যৌথভাবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে এ শিল্পের পরিধিও আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে হালাল পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা উল্লেখ করে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান ও সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করতে হবে। সঠিক ধারণা ও জ্ঞানের সঠিক সমন্বয় ঘটাতে পারলে তা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়াবে।’
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, কুয়ালালামপুর সফরের সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন, তা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এ জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের জনগণের অভিন্ন মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপরও এ সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে উঠেছে। তাঁর মতে, হালাল শিল্প ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান এবং বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।