
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতিতে বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দিতে তরুণদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক সক্ষমতায় প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় যুবসমাজই সভ্যতার সবচেয়ে বড় শক্তি ও সম্পদ। এআই-নির্ভর ভবিষ্যৎ পৃথিবীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাদের এখন থেকেই প্রস্তুত করতে হবে।”
তিনি বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির ফলে তৈরি নতুন ‘ইকোসিস্টেম’ মানবসভ্যতার জন্য যেমন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে, তেমনি সামনে আনছে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও। তার ভাষায়, “প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের মধ্য দিয়ে যে নতুন ‘ইকোসিস্টেম’ তৈরি হয়েছে, তা একদিকে মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ, অন্যদিকে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।”
এআইকে সভ্যতার জন্য নতুন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে তরুণদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই এআইনির্ভর ভবিষ্যতের ঝুঁকি ও সম্ভাবনা মোকাবিলায় তাদের উপযুক্ত প্রস্তুতি দেওয়া রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তিনি বলেন, “বিশ্ব এখন এমন গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যে অদূর ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে অনুমান করা কঠিন।”
এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি নতুন জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “তরুণদের শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত করলেই হবে না। তাদের ডিজিটাল সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।”
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, “পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থা ও নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ইকোসিস্টেমের জন্য নতুন ধরনের প্রতিষ্ঠান এবং জ্ঞানব্যবস্থা প্রয়োজন।” তার মতে, তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার বিষয়টি এখন শুধু উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ নয়; ভবিষ্যৎ সভ্যতার জন্য এটি অপরিহার্য বিনিয়োগ।
তিনি বলেন, “যুবসমাজ শুধু কোনও একটি দেশের সম্পদ নয়, তারা পুরো মানবসভ্যতার সম্পদ। নতুন প্রজন্মকে শুধু ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে দেখলে হবে না, বর্তমানের পরিবর্তনের অংশীদার হিসেবেও তাদের বিবেচনা করতে হবে।”
বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুবসমাজকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।” খেলাধুলা, সৃজনশীলতা, যুব উন্নয়ন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকা সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “সরকারের এই অবস্থানই প্রমাণ করে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে যুবসমাজকে অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।” তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশসহ বিশ্ব অগ্রগতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে যুবসমাজকে ঘিরে আরও বিস্তৃত কর্মসূচি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যুবসমাজকে প্রস্তুত করা মানে শুধু তাদের কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি করা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সভ্যতার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা।”
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইমরানুল হাসান জানান, অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস এম জোবায়েদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।