
যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অতীতে ঘটে যাওয়া নারকীয় শিশু যৌন নির্যাতন ও দলবদ্ধ ধর্ষণের একটি লোমহর্ষক ঘটনায় তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ মোট আটজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে। দক্ষিণ ওয়েলসের গুয়েন্ট পুলিশ বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত জটিল এক অনুসন্ধান প্রক্রিয়া শেষে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির নিউপোর্ট, সোয়ানসি, লন্ডন, বার্মিংহাম, ল্যাঙ্কাশায়ার, এডিনবার্গ এবং স্কটল্যান্ডের আর্গিল অ্যান্ড বিউট অঞ্চল থেকে এই আট অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
‘অপারেশন ওক’ নামক বিশেষ পুলিশি অভিযানের আওতায় এই চক্রটির বিরুদ্ধে মোট ৩৪টি সুনির্দিষ্ট পৈশাচিক অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যার মধ্যে ১৭টিই সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা।
আদালতের নথিপত্র ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে শৈশবে চরম যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া বেশ কয়েকজন নারী সম্প্রতি ন্যায়বিচারের আশায় এই অভিযোগগুলো দায়ের করেন। অভিযুক্তদের বর্তমান বয়স ৫৪ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে এবং তারা প্রত্যেকেই ব্রিটিশ নাগরিক। তবে আসামিদের নাম ও পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এদের মধ্যে মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নান, শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহ এবং আমিনুর রহমান চৌধুরী নামের তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক রয়েছেন।
অভিযুক্তদের অপরাধের বিবরণীতে জানা যায়, বার্মিংহামের বাসিন্দা শাফাক মোহাম্মদের (৫৮) বিরুদ্ধে ১১ বছরের কম বয়সি ও ১৬ বছরের ঊর্ধ্বের নারী ধর্ষণসহ সর্বোচ্চ ১১টি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া এডিনবার্গের মোহাম্মদ শেখ আব্দুল হান্নানের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ষড়যন্ত্রসহ আটটি এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের শাকিল বাবুরের (৫৮) বিরুদ্ধে ১৬ বছরের কম বয়সি শিশুকে শ্লীলতাহানির চারটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে নিউপোর্টের সৈয়দ মোহাম্মদ আশান তাকভি (৬৫) এবং সোয়ানসির মুরাদ আলীর (৫৭) বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউপোর্টের শেখ মোহাম্মদ তাহির উল্লাহর (73) বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণের এবং টটেনহ্যামের আমিনুর রহমান চৌধুরীর (৫৮) বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া স্কটল্যান্ডের কেভিন লরেন্সের (৫৪) বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র ও পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার তিনটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
মামলার সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে ওয়েলসের প্রধান ক্রাউন প্রসিকিউটর জেনি হপকিন্স জানিয়েছেন, মামলাটি আদালতে তোলার জন্য এবং জনস্বার্থে অপরাধমূলক কার্যক্রমের বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটররা যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই নিউপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই আট আসামিকে সশরীরে হাজির করার দিন ধার্য করা হয়েছে।