
পাবনার সুজানগরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় এক নারী স্কুলশিক্ষকসহ মোট ১১ জনকে আইনের আওতায় এনেছে যৌথ বাহিনী। উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা এক বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃত ওই নারী শিক্ষকের নাম আফরোজা শিখা, যিনি স্থানীয় মথুরাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য সাধারণ মানুষের জটলাকে কাজে লাগিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখা ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ছক কষছে—এমন একটি গোপন সংবাদ আসে। এই তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার মথুরাপুর গ্রামে অভিযানে যায় পুলিশ। তবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকে উসকানিমূলক ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় কিছু বাসিন্দা দলবদ্ধভাবে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এই সহিংস হামলায় পুলিশের দুটি গাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয় এবং সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাফফর হোসেনসহ দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। ওসির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পাবনার সহকারী পুলিশ সুপার (সুজানগর সার্কেল) সাদিক আহমেদ জানান, সরকারি কাজে বাধা দান, পুলিশের ওপর হামলা ও নাশকতার অভিযোগে সুনির্দিষ্টভাবে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পাবনা ডিবি পুলিশের ওসি রাশিদুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় করা মামলার ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।