
‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’-এর এক দশক পূর্তি উপলক্ষে রাজধানীতে আলোচনা সভা ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে গ্রাম ও কৃষকের উন্নয়নে সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষি ও গ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই গ্রাম বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে, কৃষক বাঁচলেই বাংলাদেশ বাঁচবে। কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সমাজব্যবস্থার ইতিবাচক রূপান্তর প্রয়োজন।
তিনি তেভাগা আন্দোলন, নীল বিদ্রোহ, ওহাবী ও ফারায়েজী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে বাঙালির সংগ্রামী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীল নারীর নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, জীবনমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সরকারের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।
বক্তারা মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে এর কার্যক্রম আরও বিস্তারের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষাবিদ এবং মোরাল প্যারেন্টিং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।