
দীর্ঘ ১১৫ দিনের অনিশ্চয়তা শেষে অবশেষে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজটি মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোররাতে হরমুজ পাড়ি দেয়। এর মধ্য দিয়ে জাহাজে থাকা ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষারও অবসান ঘটে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের পর জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত জাহাজটি সাত নটিক্যাল মাইল গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল।
জাহাজটির প্রধান প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান জানান, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ১২ মিনিটে তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেন। বিকেলের মধ্যে ফুজাইরা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শেষে নাবিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। আমরা সবাই খুশি। যেন দীর্ঘদিন পর মুক্তির স্বাদ পেলাম।’
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা অতিক্রম করার সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হলেও ইরানের অনুমতি নিয়ে সীমিত পরিসরে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই বাংলার জয়যাত্রা নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। পরে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল বোঝাই করে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর পরদিন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয় এবং পারস্য উপসাগরেই আটকে পড়ে জাহাজটি।
জাহাজটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘাত শুরুর পর অন্তত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১১৫ দিনের অপেক্ষার পর মঙ্গলবার ভোরে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটে।