দেশে কর শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন (ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) এখন বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য বাধ্যতামূলক একটি পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি টিআইএনধারী রয়েছেন, যাদের মধ্যে এ বছর প্রায় সাড়ে ৪২ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন।
টিআইএন হলো করদাতার একটি ইউনিক নম্বর, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের আয়, কর পরিশোধ ও আর্থিক তথ্য শনাক্ত ও বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করে।
টিআইএন বা টিন সার্টিফিকেট ছাড়া যেসব সেবা পাওয়া যাবে না তার মধ্যে রয়েছে—
১. সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমার বেশি বেতন গ্রহণ এবং প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের চাকরিতে টিআইএন প্রয়োজন।
২. সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নের ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক।
৩. জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা নিবন্ধন করতে টিআইএন থাকতে হবে।
৪. মোটরযান নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নের জন্য টিআইএন প্রয়োজন।
৫. ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর সনদ গ্রহণে টিআইএন বাধ্যতামূলক।
৬. ঋণপত্র (এলসি) খোলা এবং ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে টিআইএন লাগবে।
৭. সরকারি বা স্থানীয় সরকারের দরপত্রে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন আবশ্যক।
৮. ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক।
৯. বিভিন্ন অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ এবং সন্তানের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার ক্ষেত্রে অভিভাবকের টিআইএন প্রয়োজন।
১০. মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, সিকিউরিটি সার্ভিসসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রমে টিআইএন প্রয়োজন।
১১. ঋণপত্র স্থাপন, রপ্তানি নিবন্ধন সনদ গ্রহণ, বীমা জরিপ প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ, কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার, কাজি বা বিবাহ নিবন্ধনকারী, ড্রাগ লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবায় টিআইএন বাধ্যতামূলক।
১২. ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন থাকতে হবে।
১৩. জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে টিআইএন বাধ্যতামূলক।