
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাবে পরিবহন ভাড়া ও নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে সরকার আলোচনা করছে এবং তা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে সরকারি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, জ্বালানির মূল্য পরিবর্তনের কারণে পরিবহন খাতে ভাড়া সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায় এসেছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ভাড়া শুধু বাস না, আসলে জীবনযাত্রার ব্যয়ের উপরে বেশি প্রভাব পড়বে ট্রাকের ভাড়ায়। সরকারের কাজ কিন্তু শুধু জনগণ বলতে যাদেরকে বুঝি ভোক্তার স্বার্থরক্ষা না, একটা কথা মনে রাখতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু ভোক্তার নয়, বরং সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় কাজ করছে। তার ভাষায়, ‘একটা সরকার কিন্তু ব্যবসায়ীদেরও সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, যে মানুষটা বাস চালান, যে মানুষটা ট্রাক চালান তিনিও এই রাষ্ট্রের নাগরিক, এই সরকার কিন্তু তারও সরকার। সুতরাং তিনি তার ওপরও এমন কিছু করা ঠিক হবে না যাতে তার ব্যবসা না হতে পারে। সরকার কিন্তু কারও পক্ষ না, সরকার সবার সরকার। সরকার চেষ্টা করবে এমন একটা পয়েন্টে আসা যেখানে সবার কম ক্ষতি হয়। আমরা খেয়াল করি, আমি আগে একদিন বলেছিলাম-এই সংকটে আমাদের প্রত্যেকের ক্ষতি হবে, এটা মেনে নিতে হবে। এটা সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে।’
জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, দেশে বড় ধরনের সংকট নেই, তবে কিছু জায়গায় চাপ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আরও জাহাজ আসছে। সংকটটা আসলে আমাদের চাহিদা ভীতি অথবা ব্যবসা...এগুলো অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব দেখভাল করা। কোনো কোনো জায়গায় বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। সুতরাং এই জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। সংকটটা আসলে মূলত সেখানে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, কিছু এলাকায় সাময়িক ঘাটতি থাকলেও তা বৈশ্বিক পরিস্থিতির অংশ। তার ভাষায়, ‘সার্বিক সরবরাহে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ঘাটতি আছে, যেটা আসলে একটি গ্লোবাল ট্রেন্ড। যেগুলোর (পাম্প) নাম বললাম, সেখানেও লাইন আছে। কারণ এখন চাহিদা আগের তুলনায় তিন-চার গুণ বেশি। অনেকে এক ধরনের প্যানিক বায়িং করছে, এ কারণে আসলে সংকটটা হচ্ছে।’
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের অজুহাতে অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দাম বাড়ে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা প্রবণতা আছে, যখনই তেলের দাম বাড়ছে, ভাড়া বাড়ছে, দ্রব্যমূল্য ওই অজুহাতে যতটুকু বাড়ার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করবো আসলে এই জিনিসটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।’
সবশেষে তিনি জানান, দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা ডিমের দাম যখন এক টাকা দুই টাকা বেড়ে যায়, কিছু কিছু মানুষের জন্য দুই টাকা ডিমের দাম বৃদ্ধি তার শিশুকে একটার জায়গায় অর্ধেক ডিম দেব কি না-এই সিদ্ধান্তে নিয়ে যেতে পারে। সো ওই গ্রুপটা বা ওই মানুষগুলোর জন্যই আমরা প্রয়োজনে অন্য কর্মসূচি বাড়াব।’