
স্বপ্ন কখনো কখনো বাস্তবতার চেয়েও বেশি উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। তেমনই এক স্বপ্নগাঁথা বুনলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা মেটালশিল্পী এ.কে. রাহুল ও তার ব্যান্ড।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বখ্যাত মেটালকোর ব্যান্ড মেমফিস মে ফায়ারের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করে নতুন এক আন্তর্জাতিক অধ্যায় লিখল এই বাংলাদেশি সংগীত দল। বহু বছরের অপেক্ষা, অনুপ্রেরণা আর অধ্যবসায়ের পর এই মঞ্চ যেন রাহুলের জন্য ছিল এক জীবন্ত স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি।
পারফরম্যান্স শেষে লাইভ ভিডিওতে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি রাহুল। তিনি বলেন, ‘এই সুযোগটা আমাদের জন্য বিশাল কিছু। যারা আমাদের পাশে ছিল, তাদের প্রতি আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। এটা আমাদের ব্যান্ডের জন্য স্বপ্নপূরণ।’ তাঁর কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা আর বিস্ময়ের মিশেল, যেন এত বড় মঞ্চে দাঁড়ানোও এখনও পুরোপুরি বিশ্বাস হচ্ছে না।
আরও আবেগঘন হয়ে তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকেই তিনি মেমফিস মে ফায়ারের সংগীত শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সেই ব্যান্ডের জন্যই আজ একই মঞ্চে দাঁড়ানো তাঁর কাছে এক অবিশ্বাস্য অনুভূতি। থাইল্যান্ডের দর্শকদের উচ্ছ্বাসও তাঁকে ছুঁয়ে গেছে গভীরভাবে। তাঁর ভাষায়, দর্শকদের ভালোবাসা ছিল অভূতপূর্ব, যা কোনো শব্দে প্রকাশ করা যায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল লেখেন, ‘ছিড়া ফেলসি কালকে।’ অন্যদিকে ব্যান্ডের গিটারিস্ট মাহদি লেখেন, ‘আই অ্যাম লিভিং মাই ড্রিম, উই আর লিভিং আওয়ার ড্রিম।’ দুই বাক্যেই ধরা পড়েছে দীর্ঘ যাত্রার পর পাওয়া স্বপ্নপূরণের আনন্দ।
এই ঐতিহাসিক মঞ্চে মেমফিস মে ফায়ারও রাহুলকে স্টেজ থেকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেয়, যা মুহূর্তটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। এমনকি এ.কে. রাহুলের ব্যান্ডের সঙ্গে তোলা ছবিও তারা সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে।
ব্যাংককের সেই রাত এখন শুধু একটি কনসার্ট নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের আন্তর্জাতিক অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে উঠেছে।