
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। বিশেষ করে এই সময়ে বিক্ষোভ ও সমাবেশ থেকে দূরে থাকার এবং বড় জনসমাগমের আশপাশে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালেই নিজস্ব ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিকবার এই সতর্কতা প্রচার করেছে। এর আগে, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলের বিষয়ে সর্বশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকালীন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বা চরমপন্থি হামলার ঘটনা ঘটতে পারে, যা সমাবেশ, ভোটকেন্দ্র এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে, বিক্ষোভ-সমাবেশ এড়িয়ে চলতে এবং যেকোনো বড় জনসমাগমের আশপাশে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।"
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, "যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং মনে রাখা উচিত যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে আয়োজিত বিক্ষোভ বা সমাবেশও সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে এবং সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। বিক্ষোভ এড়িয়ে চলুন এবং যেকোনো বড় জনসমাগমের আশপাশে সতর্কতা অবলম্বন করুন।"
নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর ১০ ফেব্রুয়ারি এবং সকল ধরনের পরিবহন চলাচলের ওপর ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সীমিত নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই সময়ে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস সীমিত পরিসরে সশরীরে সেবা প্রদান করবে।
দূতাবাস মার্কিন নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, বড় জনসমাগম ও বিক্ষোভ এড়ানো, সব সময় নিজের আশপাশ সম্পর্কে সচেতন থাকা, স্থানীয় সংবাদ পর্যবেক্ষণ করা, সতর্ক থাকা এবং নিজেকে নজরের বাইরে রাখা জরুরি। এছাড়া জরুরি যোগাযোগের জন্য চার্জ করা মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা এবং বিকল্প চলাচলের পথের বিষয়ে পরিকল্পনা করা আবশ্যক।