
মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের সামাজিক ও পরিবার উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী ড. আয়শাথ শিহামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মালদ্বীপের বাংলাদেশ হাইকমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বৈঠকে সামাজিক কল্যাণ, পরিবার উন্নয়ন এবং সামগ্রিক সামাজিক সুস্থতা বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সভাটি সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়।
আলোচনাকালে মন্ত্রী ড. আয়শাথ শিহাম তার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সেবা, শিশু নির্যাতনের শিকারদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসন, এবং সামাজিক ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য সমন্বিত সহায়তা কার্যক্রম। তিনি মালদ্বীপে সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এসব মোকাবিলায় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের দেশ উন্নয়নে অবদান এবং প্রবাসী পরিবার ও শিশুদের সহায়তায় মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
মন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশি ও মালদ্বীপের নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাহ বন্ধন দুই দেশের জনগণের মধ্যে মানুষের-মানুষে যোগাযোগ এবং সামাজিক সংহতির একটি ইতিবাচক নিদর্শন।
হাইকমিশনার মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ সরকারের প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতিশীল নীতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সামাজিক সংহতি, পারিবারিক কল্যাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় মালদ্বীপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পরিবার কল্যাণ, শিশু সুরক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ে যৌথ সেমিনার, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের সম্ভাবনা অন্বেষণে সম্মত হন।
উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে। বৈঠকটি সামাজিক ও পারিবারিক উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ জোরদারের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশি ও মালদ্বীপি উভয় সম্প্রদায়ের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।