
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।
মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফোনালাপে এ বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় বলা হয়, ড. ইউনূস ফোনালাপে বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্যের সয়লাব হয়েছে। দেশি ও বিদেশি উভয় গণমাধ্যম থেকে অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও জানান, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আমরা এ নিয়ে উদ্বিগ্ন।”
এ বিষয়ে জবাবে হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং ক্রমবর্ধমান ভুয়া তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।”
ফোনালাপে তারা আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার তুর্ক গুম-সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান উপদেষ্টা জানান, “জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতোমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। আমরা দায়িত্ব ছাড়ার আগে এটি সম্পন্ন করব।”
এছাড়া গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন ভলকার তুর্ক। তিনি বলেন, “তার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজকে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”