
মাদারীপুরের ডাসারে দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও জমি বিরোধ রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে—সংঘর্ষে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ১৩টি বসতঘর, লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, আর গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাতিয়াল এলাকায় জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল জমাদ্দারের সঙ্গে একই এলাকার আব্বাস চৌধুরীর দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এর জেরে মঙ্গলবার উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয় এবং হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। বুধবার সকালে একা পেয়ে আব্বাস চৌধুরীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার দুপুর থেকে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আব্বাস চৌধুরীর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে আবুল জমাদ্দার ও তার বংশের লোকজনের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ সময় আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের মোট ১৩টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
হামলা ঠেকাতে গেলে উভয়পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে ততক্ষণে ১৩টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সিরাজ জমাদ্দার বলেন, “আমাদের জানই বাঁচে না, মালামাল সরাবো ক্যামনে। আগুনে আমার ঘরবাড়ি সব পুড়ে ছাই হইয়া গেছে। শুধু আমি এক না, জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘরে কিছু আর বাকি নাই। সব পুড়ে শ্যাষ। আমরা কোনো কিছু বোঝার আগেই আব্বাসের লোকজন হঠাৎ এ হামলা চালাইছে। আমরা এ হামলার বিচার চাই।”
ঘটনার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এলাকা পরিদর্শন করেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম এবং ডাসার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আবুল আর আব্বাস গ্রুপের মধ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজকের সংঘাতের সূত্রপাত। এ ছাড়া দুই গ্রুপের মধ্যে জায়গা জমি নিয়েও বিরোধ রয়েছে। দুপক্ষেরই ক্ষমতার শক্তি দেখানোর ইস্যুও আছে। দুদিন আগে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আজ সেই সংঘাত বড় আকারে সংঘঠিত হলো। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”