
বগুড়ায় পুলিশ ও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এক প্রকৌশলীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তিন যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে মুক্তিপণের একটি অংশ। ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া শহর যুবদলের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় সরকার (৩০), তার সহযোগী শাহিন হোসেন (৩৪) এবং আশরাফুল ইসলাম (৪২)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপহৃত প্রকৌশলীর নাম জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব (৫৫)। তিনি সারিয়াকান্দি পৌরসভায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
বগুড়া শহর যুবদলের সভাপতি আহসান হাবিব মমি জানান, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সঞ্জয় সরকারকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দুপুরে সারিয়াকান্দি পৌর এলাকার কুঠিবাড়ি এলাকায় চলমান একটি ড্রেন নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা দেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব। কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে থাকা চার যুবক তার গতিরোধ করে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দেয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে বগুড়া শহরের একটি স্থানে আটকে রাখা হয়।
অপহৃত প্রকৌশলীর স্ত্রী আনজুমান আরা জানান, অপহরণকারীরা তার স্বামীর মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যার হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত ধাপে ধাপে আড়াই লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “প্রথমে শহরের চেলোপাড়া এলাকার মধুবন সিনেমা হলের সামনে তার স্বামীকে দেখিয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। এরপর আরও ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পর সন্ধ্যার দিকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।”
ডিবি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক ইকবাল বাহার জানান, ঘটনার পর প্রকৌশলীর স্ত্রী সারিয়াকান্দি থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোট ছয়জনকে ঘটনায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করা ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ভুক্তভোগী প্রকৌশলী তাদের শনাক্ত করেন।
ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, অপহরণে জড়িত ছয়জনের মধ্যে চারজন নিজেদের ডিবি পুলিশ ও দুইজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছিল। বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।