
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বুধবার বিজিবির নবীন সৈনিকদের বলেছেন দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে সর্বদা সতর্ক থাকার গুরুত্ব নিয়ে।
তিনি এই মন্তব্য করেন চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজ (বিজিটিসি অ্যান্ড সি)’ এর বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না, সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজিবি আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, পেশাদার ও দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের সীমান্ত রক্ষা, চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনকে সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করেছে।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিজিটিসি অ্যান্ড সি গত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সীমান্তের প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা সাধারণত ৭০০-১০০০ জন হলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২,৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এই চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একযোগে ৩ হাজারেরও বেশি রিক্রুটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিজিটিসি অ্যান্ড সি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।