
অন্ত্র ও হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অনেকেই দামি সাপ্লিমেন্ট, ডিটক্স পানীয় কিংবা নানা ধরনের ওয়েলনেস রুটিন অনুসরণ করেন। তবে ভারতীয় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠির মতে, এসবের চেয়ে অনেক সহজ একটি অভ্যাসই শরীরের জন্য বড় উপকার বয়ে আনতে পারে। আর সেটি হলো রাতের খাবারের পর অল্প সময় হাঁটা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শেঠি ব্যাখ্যা করেন, কেন তিনি প্রতিদিন রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, এই ছোট্ট অভ্যাস হজম প্রক্রিয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ডা. শেঠি বলেন, খাবারের পর হাঁটার অন্যতম বড় সুবিধা হলো এটি পাকস্থলী দ্রুত খালি হতে সহায়তা করে। হাঁটার ফলে পরিপাকতন্ত্রের পেশিগুলো সক্রিয় হয়, যা খাবারকে পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। এর ফলে পেট ফাঁপার সমস্যা কমতে পারে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের ঝুঁকি হ্রাস পায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যও কমতে পারে।
অনেকেই ভারী খাবার খাওয়ার পর অস্বস্তি অনুভব করেন। এ ক্ষেত্রে হালকা হাঁটা পরিপাকতন্ত্রকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করতে পারে বলে জানান তিনি।
রাতের খাবারের পর হাঁটার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা হিসেবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উল্লেখ করেন ডা. শেঠি। তাঁর ভাষ্য, খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিট হাঁটলেও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব, যা সাধারণত খাওয়ার পর বেড়ে যায়।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, হাঁটার সময় শরীরের পেশিগুলো সক্রিয় হয়ে শক্তির উৎস হিসেবে গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ফলে শরীর আরও কার্যকরভাবে শর্করা প্রক্রিয়াজাত করতে পারে। বিশেষ করে যারা রক্তে শর্করার স্বাস্থ্যকর মাত্রা বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য এই অভ্যাস বেশ উপকারী হতে পারে। তাই খাওয়ার পরপরই সোফায় বসে থাকার বদলে কিছুক্ষণ হাঁটা কম পরিশ্রমেই ভালো ফল দিতে পারে।
ডা. শেঠি আরও জানান, অনেক মানুষ ডিটক্স জুস, ক্লিনজিং কিংবা উন্নত হজমের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বিভিন্ন ওয়েলনেস প্রোগ্রামে অর্থ ব্যয় করেন। অথচ রাতের খাবারের পর অল্প সময় হাঁটার জন্য কোনো খরচই করতে হয় না। এ অভ্যাস গড়ে তুলতে প্রয়োজন হয় না বিশেষ কোনো যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষণ বা জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনেরও।
তাঁর মতে, নিয়মিত রাতের খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস হজমশক্তি উন্নত করতে, বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নয়নে সহায়তা করতে এবং অন্ত্রের সার্বিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি ছোট একটি পরিবর্তন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া সম্ভব। ডা. শেঠির মতে, যারা খাবারের পর সক্রিয় থাকেন, তাদের হজমশক্তি সাধারণত তাদের চেয়ে ভালো থাকে যারা নিষ্ক্রিয় থাকেন।