
আধুনিক বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এখন হাই কমোড বা ওয়েস্টার্ন টয়লেটের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। তবে অনেকেই জানেন না, এটি ব্যবহারেরও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে। শুধু কমোড ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, বরং সঠিক অভ্যাস আপনাকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের বিভিন্ন জীবাণুজনিত সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে।
ব্যবহারের আগে প্রথমেই দেখে নিন কমোডের সিট পরিষ্কার আছে কি না। প্রয়োজন হলে টয়লেট টিস্যু বা জীবাণুনাশক ওয়াইপ দিয়ে সিট মুছে নিন। পাবলিক টয়লেট হলে সিট কভার ব্যবহার করা আরও নিরাপদ।
হাই কমোডে সবসময় সিটের ওপর স্বাভাবিকভাবে বসে ব্যবহার করা উচিত। অনেকেই সিটের ওপর পা তুলে বসেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সিট ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমনকি গুরুতর আঘাত পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
ব্যবহার শেষে অবশ্যই ফ্লাশ করতে হবে। যদি কমোডে দুটি ফ্লাশ বাটন থাকে, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট বা বড় ফ্লাশ ব্যবহার করলে পানির অপচয় কম হয়।
অনেকের ধারণা, কমোডের ঢাকনা খোলা বা বন্ধ রাখলে তেমন কোনো পার্থক্য হয় না। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ফ্লাশ করার সময় পানির প্রবল চাপের কারণে অতি ক্ষুদ্র পানি ও জীবাণুর কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফ্লাশিং প্লুম’। এসব কণা সিংক, টুথব্রাশ, রেজর, তোয়ালে কিংবা বাথরুমের অন্যান্য জায়গায় গিয়ে জমতে পারে।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু ঢাকনা নামিয়ে রাখলেই সব জীবাণু আটকে যায় না। অতি সূক্ষ্ম কণার একটি অংশ ঢাকনার ফাঁক দিয়েও বের হতে পারে। তারপরও স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা ফ্লাশ করার আগে ঢাকনা নামিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে বড় পানির ফোঁটা ছিটকে বাইরে আসা কমে, দুর্গন্ধের বিস্তার কিছুটা কম হয় এবং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।
অনেকেই কমোডের সিট ও ঢাকনা নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন। কমোডের যে অংশে বসা হয়, সেটি হলো সিট। আর সবচেয়ে ওপরের শক্ত অংশটি হলো ঢাকনা। ব্যবহারের সময় সিট নিচে এবং ঢাকনা ওপরে থাকবে। ব্যবহার শেষ হলে সিট নিচে রেখেই ঢাকনাটি নামিয়ে বন্ধ করে রাখা সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
শুধু ঢাকনা নামিয়ে রাখলেই স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হয় না। প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
বাথরুমের পরিচ্ছন্নতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টয়লেট সিট, ফ্লাশ বাটন, দরজার হাতল ও পানির ট্যাপ নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত। পাশাপাশি বাথরুমে পর্যাপ্ত বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। টুথব্রাশ, রেজর ও তোয়ালের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কমোডের পাশে খোলা অবস্থায় না রেখে বন্ধ ক্যাবিনেট বা ঢাকনাযুক্ত পাত্রে সংরক্ষণ করা ভালো। যাঁদের পোষা প্রাণী আছে, তাঁদের খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রাণীটি টয়লেটের পানি পান করতে না পারে।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, হাই কমোড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু ঢাকনা খোলা বা বন্ধ রাখা নয়, বরং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রতিবার ব্যবহারের পর ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা। এই কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললেই নিজের ও পরিবারের সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।