
নওগাঁয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষের স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে স্বর্ণালংকার লুটের পর মৃত্যুর ঘটনায় হাসিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া স্বর্ণালংকার বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ৯টার দিকে জেলা পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
নিহতের নাম ফাতেমা বেগম। তিনি নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদুল আলমের স্ত্রী।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন আগে ফাতেমা বেগমকে অজ্ঞান করে তার গলা ও হাতের স্বর্ণালংকার নিয়ে শহরের নদীপাড় এলাকার একটি ময়লার পট্টিতে ফেলে রেখে যায় একটি প্রতারক চক্র। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ জুন সকালে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের পর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ দল তদন্ত শুরু করে।
তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন স্থানের ৮৫ থেকে ৮৭টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। এক নারী, যিনি চোখে চশমা ও মুখে মাস্ক পরে ছিলেন এবং তার সঙ্গে আড়াই বছরের একটি শিশু ছিল, তাকেই তদন্তের প্রধান সূত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় নওহাটা এলাকা থেকে হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে হাসিনা জানান, তিনি বিভিন্নভাবে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাদের সর্বস্ব লুট করতেন। ঘটনার দিন উকিলপাড়া এলাকায় টার্গেট খুঁজতে গিয়ে তার সঙ্গে ফাতেমা বেগম ও তার স্বামীর পরিচয় হয়। তিনি তাদের সঙ্গে স্টারলাইট ফার্মেসিতে যান এবং বিশ্বাস অর্জনের পর ফাতেমা বেগমকে নিজের সঙ্গে নিয়ে রিকশায় ওঠেন। এরপর অভিযুক্তের কাছে থাকা একটি জুসে আগে থেকে গুঁড়ো করে রাখা ‘জিওনিল’ নামের তীব্র ঘুমের ওষুধের ৬ থেকে ৭টি ট্যাবলেট মিশিয়ে ফাতেমা বেগমকে পান করান।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাতেমা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার গলা ও হাত থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে শহরের নদীপাড় এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যান হাসিনা। লুট করা স্বর্ণালংকার জোয়ারদার জুয়েলার্সের ইমরান নামে এক ব্যক্তির কাছে মাত্র ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযুক্ত স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছেন কি না এবং লুট হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দের পাশাপাশি মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মো. জিন্নাহ আল মামুন, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব এবং সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।