
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়ে এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেস ও প্রেসিডেন্সিতে রিপাবলিকানদের একক প্রভাবের অবসান ঘটল।
বুধবার (৪ নভেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হয়। সর্বশেষ পাওয়া ফলাফলে দলটি অন্তত ৫১টি আসন পেয়েছে। তবে কয়েকটি আসনে ভোট গণনা তখনো চলছিল।
১০০ সদস্যের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৫১টি আসন প্রয়োজন ছিল। বিদায়ী ১১৯তম কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ জন সদস্যের সঙ্গে দুই স্বতন্ত্র সিনেটর জোটবদ্ধ ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা গেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজ রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন। ডারলিন গ্রাহাম প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।
নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর ডেমোক্র্যাট রয় কুপার তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়েছেন। রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস ট্যালারিকো। তিনি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন। ১৯৯৪ সালের পর টেক্সাসে কোনো ডেমোক্র্যাটের এ জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওহাইওতে বিদায়ী রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন। আর ক্যানসাসে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন। ১৯৩২ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট।
বিজয়ী ভাষণে হ্যামিল্টন বলেন, প্রায় এক শতাব্দী পর রিপাবলিকান-অধ্যুষিত ক্যানসাসে একজন ডেমোক্র্যাটের জয় পাওয়া বিস্ময়কর। তার মতে, রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র ও ডেমোক্র্যাট—সব ধরনের ভোটারই ওয়াশিংটনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন।
এবার সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ৩৩টি আসনের পাশাপাশি ওহাইও ও ফ্লোরিডায় দুটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সিনেটরদের মেয়াদ ছয় বছর হওয়ায় প্রতি দুই বছর পরপর সাধারণত এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। এ কারণে প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন করা কঠিন।
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের বেশ কয়েকটি আসনও ধরে রাখতে পেরেছে। এর মধ্যে সুইং স্টেট জর্জিয়ায় জন ওসফের পুনর্নির্বাচিত হওয়া উল্লেখযোগ্য। ২০০৯ সাল থেকে ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধিত্ব করা মার্ক ওয়ার্নারও চতুর্থ মেয়াদে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন।