
ইরান সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্য নিয়ে সামরিক পদক্ষেপের পর এবার নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরাইলের নির্বাচনে কোনো জোট এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।
ইসরাইলের পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। বিরোধী নেতা গাদি আইসেনকোটের জোটের আসন ৪৮টি এবং আরব দলগুলোর জোট পেয়েছে ১৯টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিতে হবে, অথবা বিরোধী জোটের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। কিন্তু তার জোটের উগ্র ডানপন্থী শরিকরা আরব কিংবা বামপন্থীদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি নয়। বিশেষ করে ইতামার বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন দলটির সাতটি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্টের দাবি, বিরোধী নেতা আইসেনকোটের জোট যেকোনোভাবে সরকার গঠন করবে। তার ধারণা, আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে বিরোধীদের সামনে। এ ক্ষেত্রে মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রাম পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিরোধীদের সরকার গঠনের পথ আটকে দিতে নেতানিয়াহু সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দেশটিতে আবার নির্বাচন হতে পারে।
নেতানিয়াহু সরাসরি নির্বাচনে পরাজিত না হলেও সরকার গঠনের পথ তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উগ্র ডানপন্থী শরিকদের অবস্থানই এখন তার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এতে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ায় রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রয়টার্সের এক জরিপে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন ৩২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই জরিপে জাতীয় পর্যায়ে কংগ্রেস নির্বাচনে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন ৫৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের প্রতি ৪৪ শতাংশ পাওয়া গেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির উচ্চ দাম নিয়ে অসন্তোষও নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হতে পারে। ফলে ইসরাইলে নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের অনিশ্চয়তা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।