-6abe7eb0a5744.webp)
আসন্ন ইসরাইলি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আরেক মেয়াদে থাকার পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানাতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র নেতানিয়াহুর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্প এড়িয়ে গেছেন স্পষ্ট সমর্থনের অবস্থান।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচিত হওয়া উচিত কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি বলেন, তিনি এখন আর রাজনীতিতে যুক্ত নন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে তার জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করেন।
একই প্রশ্ন আবার করা হলে ট্রাম্প বলেন, তার মূল লক্ষ্য ইসরাইলকে সুরক্ষায় সহায়তা করা। তবে নেতানিয়াহুর পক্ষে সরাসরি সমর্থনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
নেতানিয়াহুকে অবমূল্যায়ন না করার বার্তা
ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতে তার নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে ইসরাইলিদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
সাক্ষাৎকারে বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজ করা সহজ হবে কি না, জানতে চাওয়া হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আইজেনকোট সম্পর্কে তিনি কোনো নেতিবাচক কথা শোনেননি। তবে একই সঙ্গে নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল ধরে না নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ট্রাম্প বলেন, অতীতেও অনেকবার নেতানিয়াহুকে রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গেছেন বলে মনে করা হয়েছে। একই ধরনের ধারণা তার নিজের ক্ষেত্রেও করা হয়েছিল। তাই নেতানিয়াহুকে খাটো করে দেখার পক্ষপাতী নন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং লেবানন ও গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৭ অক্টোবরের হামলা নিয়ে নেতানিয়াহুর আগাম তথ্য পাওয়ার দাবি নাকচ
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নেতানিয়াহু সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলেন—এমন প্রতিবেদনের ব্যাপারেও সন্দেহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
তার বক্তব্য, নেতানিয়াহু যদি সত্যিই আগে থেকে হামলার বিষয়ে জানতেন, তাহলে তিনি অবশ্যই কোনো পদক্ষেপ নিতেন। ফলে এ ধরনের দাবি তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানান ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়েও সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শুরুতে ইরানের বিরুদ্ধে চার থেকে আট সপ্তাহের সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। পরে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো আরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চাইলে তখনই অভিযান বন্ধ করতে পারতেন। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় সেটিকে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত মনে হয়নি।
হরমুজ প্রণালি ও ভবিষ্যৎ হামলা প্রসঙ্গে
ট্রাম্পের দাবি, সংঘাত শুরুর পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালির চলাচল বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে দাবি করেন তিনি। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরান যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, প্রস্তাবটির শর্ত যথেষ্ট গ্রহণযোগ্য ছিল না।
আগামী মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা আরও বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে ‘সম্ভব’ বলে মন্তব্য করেন। পরে অবশ্য এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, তিনি এ তথ্য প্রকাশ করতে পারবেন না।