-6ab69b2148d57 (1).webp)
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য ঘিরে নজিরবিহীন বয়কটের ঘটনা ঘটেছে। ভাষণ দিতে মঞ্চের দিকে নেতানিয়াহু এগিয়ে যাওয়ার সময়ই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা একযোগে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার প্রতিবাদ এবং ফিলিস্তিনি মিশনের প্রতি সমর্থন জানাতেই এই গণবর্জন করা হয়। বিশ্বমঞ্চে এমন প্রকাশ্য প্রতিবাদের পর কোন কোন দেশ ও প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন এবং নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় কারা অধিবেশন কক্ষে ছিলেন না—তা চিহ্নিত করে তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ইসরাইলি প্রশাসন।
নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় ফাঁকা হয়ে যায় সিংহভাগ আসন
নিউ ইয়র্কে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতিতে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন অধিবেশন কক্ষের অধিকাংশ আসনই ফাঁকা দেখা যায়। একের পর এক প্রতিনিধি দল কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় সেখানে উপস্থিতির চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
তবে কক্ষে থেকে যাওয়া নিজের সমর্থকদের করতালি ও উল্লাসের মধ্যেই বক্তব্য চালিয়ে যান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়া প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। তাদের ‘ভুয়া মানবাধিকার কর্মী’ এবং ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যা দেন তিনি।
একই সঙ্গে যারা সত্য শোনার সাহস বা মানসিকতা রাখেন না, তাদের অধিবেশন কক্ষ থেকে এখনই বেরিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
৭৭টির বেশি দেশের প্রতিনিধি অনুপস্থিত বা কক্ষত্যাগ
ইসরাইলি সূত্রের তথ্য এবং অধিবেশন কক্ষের আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, সৌদি আরব, ইরান, আলজেরিয়া, সুদান, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, মন্টিনিগ্রো, কিরগিজস্তান, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ৭৭টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি দল নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় হয় কক্ষ ত্যাগ করেছিল, নয়তো সেখানে উপস্থিত ছিল না।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অনেকেই পুরো প্রতিনিধি দল নিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। আবার কোনো কোনো দেশ ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করে। তারা মূল প্রতিনিধি দলকে সরিয়ে নিয়ে কেবল একজন প্রতিনিধিকে কক্ষে রেখে যায়—যা প্রতিবাদের প্রতীকী অবস্থান হিসেবে দেখা হয়।
নেতানিয়াহুর সামনে সোলাইমানির ছবি রেখে কক্ষ ছাড়েন ইরানি নেতারা
নেতানিয়াহুর ভাষণ ঘিরে ইরানি প্রতিনিধিদের প্রতিবাদের ধরনও ছিল আলাদা। নেতানিয়াহুর সামনে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে ইরানি নেতারা অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
এভাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে শুরু করেন, তখন কক্ষের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আসন ফাঁকা হয়ে যেতে দেখা যায়।
মামদানিকেও আক্রমণ নেতানিয়াহুর
ভাষণের এক পর্যায়ে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বিরুদ্ধেও সরাসরি আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের কঠোর বিরোধী মেয়র মামদানি নেতানিয়াহুর ভাষণের ঠিক আগে তার বাসভবনে ফিলিস্তিনের শান্তির প্রতীক হিসেবে একটি জলপাই গাছ রোপণ করেন। একই সঙ্গে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়ে সেটির ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি।
মামদানির এসব কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাকে থামানোর কিংবা তার মুখ বন্ধ করার সব ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
গাজা নিয়ে নেতানিয়াহুর পাল্টা দাবি
নিজের ভাষণে গাজায় ইসরাইলি কর্মকাণ্ড নিয়েও অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, ইসরাইল গাজায় কোনো গণহত্যা চালায়নি। বরং ইসরাইল সেখানে গণহত্যা প্রতিরোধ করেছে বলে বক্তব্যে দাবি করেন তিনি।