
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে নতুন একটি যৌথ সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে সমঝোতার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে শি জিনপিং এ কথা বলেন। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনার পর এ সমঝোতা হয়েছে।
শি বলেন, নতুন এই যৌথ সমঝোতা দুই দেশের শিল্পখাত ও জনগণের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক খবর। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর পাশাপাশি যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, পারস্পরিক সমতা, সম্মান ও উভয় পক্ষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধগুলোর সমাধানের পথ বের করা সম্ভব। দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক রাখতে উভয় পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং বিদ্যমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে তথাকথিত ‘বুসান চুক্তি’র মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ১০ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত করা হয়েছে।
বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত হয়। এর আগে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের একটি অর্থনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান সমঝোতার আওতায় চীনের কিছু প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বর্ধিত সময়ের মধ্যে চীন তার প্রতিশ্রুতিগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে ওয়াশিংটন।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রতিশ্রুতি আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন বেসেন্ট। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো এবং আর্থিক খাতসহ অন্যান্য বিষয়ে নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুই দেশের বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে অন্তত আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত নতুন করে বড় ধরনের শুল্ক ও বাণিজ্য সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বৃহত্তর অর্থনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।