
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়া-ইউক্রিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে একটি তেলের পাম্পে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মঙ্গলবার ভোরে এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।
একই সময়ে কিয়েভের অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামেও হামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ক্লিৎসকো বলেন, হামলায় শহরের একটি তেলের পাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় একটি গুদামও হামলার শিকার হয়েছে। কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন একজন প্রত্যক্ষদর্শী।
সোমবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রিয়া নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। এর একদিন পরই কিয়েভে তেলের পাম্পে হামলার খবর সামনে এলো।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের তেলের পাম্প ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোয় রুশ হামলা বেড়েছে। গত কয়েক মাসে রাশিয়া প্রায় ৩০০টি তেলের পাম্পে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলার বেশির ভাগই হয়েছে ইউক্রেনের সম্মুখসারির অঞ্চল বা তার আশপাশে। জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা দুর্বল করতেই তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে এর আগে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।
এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর সময় নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক বিমান উড়িয়েছে প্রতিবেশী পোল্যান্ড। পোল্যান্ডের সশস্ত্র বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় পোল্যান্ড নিয়মিত নিজেদের আকাশসীমা পর্যবেক্ষণ করে। বিশেষ করে ইউক্রেনে বড় ধরনের রুশ বিমান বা ড্রোন হামলার সময় বাড়তি সতর্কতা নেয় দেশটি।
অন্যদিকে, রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী তাগানরোগে ইউক্রেনের হামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওজোনের একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, শহরের আরও কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া ভলগা নদীর তীরবর্তী সামারা অঞ্চলেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ভিয়াচেস্লাভ ফেদোরিশচেভ। তবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটির নাম জানাননি তিনি। সামারা অঞ্চলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি বড় তেল শোধনাগার রয়েছে।
এর আগে সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সমর্থন করতে কিয়েভ প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, শুধু ইউক্রেনের সম্মতি যথেষ্ট নয়; রাশিয়াও একইভাবে হামলা বন্ধ করবে—এমন নিশ্চয়তা যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে।