
উদীয়মান আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক জোট ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য তিন বছর আগে আবেদন করেছে পাকিস্তান। জোটের প্রভাবশালী দুই সদস্য চীন ও রাশিয়া ইসলামাবাদকে সমর্থন দিলেও ভারতের আপত্তির কারণে পাকিস্তানের সদস্যপদ এখনও ঝুলে আছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
২০২৩ সালে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে পাকিস্তান। একই সময়ে মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও আবেদন করেছিল। গত তিন বছরে এসব দেশ ব্রিকসের পূর্ণ সদস্য হয়েছে। তবে পাকিস্তান এখনও প্রাথমিক সদস্যপদও পায়নি।
ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য মোট ৩০টি দেশ আবেদন করেছে। এই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তান মূলত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্রিকসের সদস্য হতে আগ্রহী। পাকিস্তানের জাতীয় অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বর্তমানে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া বৈশ্বিক দক্ষিণের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অর্থনৈতিক জোট হিসেবে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বও পাকিস্তানের সদস্যপদের আবেদনের অন্যতম কারণ।
জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ব্রিকসের সদস্য না হলেও জোট-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এনডিবি) ৫৮ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার কিনেছে পাকিস্তান।
ব্রিকস থেকে লাভবান ভারত
ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জোটভুক্ত দেশগুলোতে ভারতের রপ্তানি ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, বৈশ্বিক দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ জোটে যোগ দিতে চায় পাকিস্তান। তিনি বলেছিলেন, ব্রিকসের ‘বেশিরভাগ’ সদস্যের সঙ্গে পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রিকসে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয়তাকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, পাকিস্তানকে সদস্যপদ পেতে সমর্থন দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো ও বেইজিংয়ের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ব্রিকসে পাকিস্তানের যোগদান আটকে আছে। জোটের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিয়মে ভারতের বিরোধিতাই এ ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
ব্রিকসের নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য বা অংশীদার দেশ হিসেবে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে বর্তমান সব সদস্য দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন।
সূত্র: এনডিটিভি