
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও ১৪২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা থেকে ২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার মধ্যে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, আহতদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৪৪ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।
কারমানপুর তার এক পোস্টে বলেন, ‘প্রতিটি সংখ্যার পেছনে একজন মানুষ এবং একটি পরিবার দাঁড়িয়ে থাকে।’
গত রোববার লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার মধ্য দিয়ে প্রায় এক মাসের বিরতির পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। ওয়াশিংটনের দাবি, সামুদ্রিক মাইন বহনকারী রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি শনাক্ত করার পর দুটি ইরানি লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
এর পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এর পর মঙ্গলবার গভীর রাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সেন্টকম ইরানের ভূখণ্ডে আইআরজিসির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ফের বিমান হামলা চালায়।
২০২৬ সালের ১৮ জুন শত্রুতা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারক কার্যকর না হওয়ায় দুই পক্ষের সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এর বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের জেরে জুলাইয়ে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।