
আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম, পণ্য বিনিময় এবং আর্থিক লেনদেন বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ইরান থেকে আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পরে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি আমিরাতের জলসীমার ভেতরে এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে পতিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় পুরোপুরি প্রস্তুত।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট মনে করেন, ইরানের সঙ্গে আমিরাতের বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্তটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইরানের অর্থনীতিতে উপসাগরীয় দেশটির বাণিজ্যিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমি মনে করি না যে দুবাই ও ইরানের মধ্যে আর্থিক ও পণ্য বাণিজ্যের গুরুত্বকে অতিমূল্যায়ন বা অবমূল্যায়ন করা যায়। বর্তমানে ইরানে আমদানি করা পণ্যের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হলো দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও তাদের পেছনে রয়েছে। প্রতি বছর ইরানের মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।’