
আর্জেন্টিনা বা দেশটির জাতীয় প্রতীককে লক্ষ্য করে ঘৃণামূলক প্রচারণা কিংবা অবমাননাকর মন্তব্য করলে বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পথ খুলে দিলেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। নতুন এক জরুরি অধ্যাদেশে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল, দেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কিংবা বহিষ্কারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের পর আর্জেন্টিনার জাতীয় দল ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ ওঠার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটিকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক প্রচারণার জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, যারা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেবে, তাদের জন্য দেশে কোনো জায়গা থাকবে না।
গত ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা আর্জেন্টিনার তিন খেলোয়াড় ও একজন কোচের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি গ্যালারিতে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও বার্তা প্রদর্শনের অভিযোগেও পৃথক তদন্ত চলছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করেছেন, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির বামপন্থী গোষ্ঠীর অর্থায়নে আর্জেন্টিনাবিরোধী এই প্রচারণা পরিচালিত হচ্ছে। তার এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রাজিল ইতোমধ্যেই বুয়েনস আইরেস থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।
জরুরি অধ্যাদেশে রাজনৈতিক, একাডেমিক কিংবা নাগরিক পর্যায়ের গঠনমূলক সমালোচনাকে সংবিধানসম্মত হিসেবে ছাড় দেওয়া হলেও ‘ঘৃণা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিদেশি নাগরিক বা পর্যটকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।