
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) পরোয়ানাকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই বিদেশে গ্রেপ্তারের যেকোনো সম্ভাব্য চেষ্টা মোকাবিলায় ইসরায়েলের ‘স্পেশাল ফোর্স’ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির গ্রেপ্তারের আহ্বান উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মার্কিন সরকারের প্রতি নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ফক্স নিউজে শন হ্যানিটির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আইসিসির সদস্যভুক্ত কোনো দেশে জরুরি অবতরণ বা সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের ঝুঁকির বিষয়টি তিনি বিবেচনায় রাখছেন। তবে এতে তিনি ভীত নন। প্রয়োজনে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনীকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দ্য হেগের আদালতে বিচারের যোগ্য, তিনি একজন যুদ্ধাপরাধী।’ পরে তিনি স্পষ্ট করেন, স্থানীয় প্রশাসনের নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের এখতিয়ার না থাকলেও ট্রাম্প প্রশাসনের এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে নেতানিয়াহুকে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজায় যুদ্ধ পরিচালনার সময় অনাহারকে যুদ্ধকৌশল হিসেবে ব্যবহার এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার অভিযোগে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে নেতানিয়াহু এসব অভিযোগকে ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের মন্তব্যকে ১৯৩০-এর দশকের ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করে নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি নিউইয়র্ক সফরে গিয়ে নিজের অবস্থান এবং ঘটনার বাস্তবতা তুলে ধরবেন।