
ইরানের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিমান অভিযানের পর হঠাৎই হামলার গতি কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আপাতত নতুন হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবিলায় ব্যবহৃত প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতেই সামরিক কৌশলে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করেন। ওই বৈঠকেই ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার ঝুঁকি তুলে ধরা হলে ইরানে বড় আকারের নতুন হামলার পরিকল্পনা থেকে সাময়িকভাবে সরে আসে হোয়াইট হাউস।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী নিরাপত্তা বৈঠকের পর প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তন আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বৈঠকে সতর্ক করেন যে, ব্যাপক আকারে হামলা চালানো সম্ভব হলেও তাতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর হাতে থাকা ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত শেষ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিমান হামলার মাধ্যমে ইরানকে আলোচনায় ফিরিয়ে আনার কৌশল নিয়েও প্রশাসনের ভেতরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তার মূল্যায়ন, এসব হামলা ইরানের অভ্যন্তরে বিভক্তি তৈরির পরিবর্তে বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে দেশটির জনগণকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ও শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে নতুন কোনো বিমান হামলা চালায়নি।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস