
সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কূটনৈতিক অবস্থান আরও কঠোর করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর এ ধরনের হামলাকে তারা নিজেদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবেই বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলাকে ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে ইরানের কাছেও কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি ভূখণ্ডে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে। এরপর কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তেহরানকে তাদের উদ্বেগ ও অবস্থান জানানো হয়।
গত বছর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর বহিরাগত হামলাকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ওই সমঝোতার আওতায় ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদির কৌশলগত কয়েকটি এলাকায় পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয় হুতি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এর জবাবে হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্য দিয়ে চার বছর ধরে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতির অবসান ঘটে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এই উত্তেজনা পাকিস্তানের জন্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। লোহিত সাগরে হামলার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে, যার ওপর পাকিস্তানের আমদানি-রপ্তানির একটি বড় অংশ নির্ভরশীল। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিকে সম্প্রতি জ্বালানি সাশ্রয়মূলক জরুরি পদক্ষেপও নিতে হয়েছে।
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মধ্যস্থতার ভূমিকাও পালন করেছে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, কূটনৈতিক জটিলতা থাকলেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে চায় পাকিস্তান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীদারদের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
পাকিস্তানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদ এখনো সব পক্ষের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে হুতিদের হামলার পরিধি যদি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আরও বিস্তৃত হয় এবং রিয়াদ সামরিক সহায়তা চায়, তাহলে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোকে পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
রেডফ্ল্যাগ শব্দ: নেই