
পারস্য উপসাগরে চলমান তীব্র সামরিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নতুন এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন আক্রমণের মুখে ইরান খুব দ্রুতই পরাস্ত হতে চলেছে এবং তেহরান নিজেই এখন রণে ভঙ্গ দিয়ে সমঝোতার টেবিলে বসার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ জুলাই) এক বিশেষ বক্তব্যে ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির এই নতুন মোড় নেওয়ার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এখন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পথ খুঁজছে। তবে তেহরানের এই আলোচনার প্রস্তাবের জবাবে মার্কিন প্রশাসন ঠিক কী পদক্ষেপ নেবে, তা তিনি পরবর্তীতে স্পষ্ট করবেন বলে জানিয়েছেন।
ইরানের বর্তমান সামরিক অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন:
“খুব শিগগিরই ইরান পরাজিত হবে। তারা খুব দ্রুত পরাজিত হবে।”
যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ভেঙে ফের সংঘর্ষ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন দুই পক্ষের মধ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনা টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা তৈরি হয়েছিল। তবে সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে গত মঙ্গলবার রাত থেকে দুই দেশের সামরিক বাহিনী আবারও নতুন করে প্রত্যক্ষ ও ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছে।
তেলের স্থাপনায় হামলা ও খারগ দ্বীপ প্রসঙ্গে বার্তা
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ওপর মার্কিন সামরিক অ্যাকশনের কৌশলগত পরিকল্পনা ফাঁস করেন। তিনি জানান, তিনি নিজে মার্কিন সেনাবাহিনীকে ইরানের মূল তেল স্থাপনাগুলোতে এখনই সরাসরি আঘাত না হানার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খারগ দ্বীপ’ পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়টি মার্কিন পরিকল্পনা থেকে একেবারে বাদ দেওয়া হয়নি বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
খারগ দ্বীপের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন:
“যদি আমরা তাদের সক্ষমতা যথেষ্ট দুর্বল করে দিতে পারি, তাহলে আমি সেই সিদ্ধান্ত নেব।”