
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বড় আর্থিক ধাক্কা দিল আদালতের রায়। আদালতের নির্দেশে লেখক ই. জিন ক্যারলের কাছে ৫৬ লাখ ডলারেরও বেশি ক্ষতিপূরণের অর্থ হস্তান্তর করা হয়েছে। যদিও এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্পের আইনজীবীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জুরির রায়ে নির্ধারিত ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং পরবর্তী সময়ে যোগ হওয়া সুদসহ মোট ৫৬ লাখ ডলারের বেশি অর্থ একটি বিশেষ এসক্রো অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যারলকে পরিশোধ করা হয়েছে।
ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান এক বিবৃতিতে ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অর্থ হাতে পাওয়ার পর ৮২ বছর বয়সী ক্যারল এক প্রতিক্রিয়ায় রসিকতার সুরে লেখেন, ‘দ্য ইগল হ্যাজ ল্যান্ডেড’, অর্থাৎ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের রায়ের পর থেকেই অর্থটি এসক্রো অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেওয়ানি মামলার রায় বহাল রাখার পর ফেডারেল বিচারক লুইস এ. কাপলান অর্থ ছাড়ের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। ট্রাম্পপক্ষ শেষ মুহূর্তে অর্থ প্রদান স্থগিতের আবেদন করলেও আদালত তা প্রত্যাখ্যান করে।
তবে ট্রাম্পের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে অর্থ পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাতিলের আবেদনও তারা আদালতে জমা দিয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার করেন বলে অভিযোগ করেন ই. জিন ক্যারল। ২০১৯ সালে নিজের স্মৃতিকথায় বিষয়টি প্রকাশের পর ট্রাম্প অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যারলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরই তিনি মানহানির মামলাও দায়ের করেন।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংশোধিত আইনের আওতায় বহু বছর আগের অভিযোগে মামলা করার সুযোগ পেয়ে ক্যারল আদালতের শরণাপন্ন হন। ট্রাম্প অবশ্য মূল বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এদিকে, ২০২৪ সালে পৃথক এক মানহানি মামলায় ক্যারলের পক্ষে দেওয়া ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণের রায়ের বিরুদ্ধেও ট্রাম্পের আপিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
তথ্যসূত্র: এপি