
হরমুজ প্রণালির নৌ-ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে চালু হওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করবে বলে সতর্ক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসাইনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ইরানের সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে বাইরের কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, কেউ যদি নতুন কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা সংকট আরও গভীর করবে।
আরাগচি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসী যুদ্ধের পর এটিই তার প্রথম ইরাক সফর। তিনি বলেন, বিশেষ ও সংবেদনশীল এই সময়ে সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইরানের ওপর হামলার নিন্দা এবং দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি সমর্থন জানানোয় ইরাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তার এই সফরের তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। সেগুলো হলো— ইরাকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নতুন ইরাকি সরকারকে অভিনন্দন জানানো এবং পবিত্র নাজাফ, কারবালা, সামাররা ও কাজিমিয়া শহরে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের সমন্বয় করা।
তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও ইরাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।
আরাগচির ভাষ্য, পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সংকটপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এই সময় পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে ইরানের হাতে এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার কোনো কর্তৃত্ব নেই।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারে বহিরাগত শক্তিমুক্ত একটি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ইরান ও ইরাককে অন্তর্ভুক্ত করে আঞ্চলিক সংলাপের যে প্রস্তাব ইরাক দিয়েছে, তেহরান সেটিকে স্বাগত জানিয়েছে।
সূত্র: মেহের নিউজ।