
ভয়াবহ যুগ্ম ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়ায় জীবিতদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে ১৭টি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি বিদেশি উদ্ধারকর্মী দেশটিতে পৌঁছেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫টি ফ্লাইটে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দল আসার কথা রয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, আরও ১০টি দেশ উদ্ধার অভিযানে যোগ দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তা, উদ্ধার ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনায় ১৪ হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা অলিভার ব্লাঙ্কো বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ১৭টি ফ্লাইটে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৫টি ফ্লাইট আসার কথা রয়েছে।”
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে দাঁড়ানোয় আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরায় অন্তত ১০০টি ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনো সরকারি উদ্ধারকারী দলের উপস্থিতি সীমিত থাকায় স্বজনরা নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন।
জরুরি যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় লা গুয়াইরা-কারাকাস মহাসড়ক বন্ধ করে দেয় সরকার। জানানো হয়েছে, সরকারি উদ্ধারকারী দলের সদস্য ছাড়া অন্যদের ওই সড়ক ব্যবহার করতে বিশেষ অনুমতিপত্র লাগবে।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানান, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল মোরন এবং লা গুয়াইরার অনেক অংশ এখনো বিদ্যুৎহীন।
সরকারি হিসাবে শত শত মানুষ নিখোঁজ বা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকলেও বিরোধী দল-সমর্থিত একটি ওয়েবসাইটে ৫৪ হাজারের বেশি মানুষকে এখনো নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই দুই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, প্রায় ৭০ লাখ মানুষ এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এবং সরাসরি আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলার।
দুর্যোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য দুটি জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিমান মোতায়েনের কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে এল সালভাদরের উদ্ধারকারী দলসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ করছেন। তবে লা গুয়াইরার কয়েকটি এলাকায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার তেলমন্ত্রী পাউলা হেনাও জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়নি এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।